নতুন ব্যাংক অনুমোদনে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনীহা
প্রকাশ : ০৪ জানুয়ারি ২০১৮, ১০:০০
নতুন ব্যাংক অনুমোদনে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনীহা
বিবার্তা প্রতিবেদক
প্রিন্ট অ-অ+

ইতোমধ্যেই নতুন তিনটি ব্যাংক আসার খবর এসেছে স্বয়ং অর্থমন্ত্রীর মুখ থেকেই। সদ্য বিদায়ী ২০১৭ সালকে হিসেব করা হচ্ছে ব্যাংক খাতে নৈরাজ্যের বছর হিসেবে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন এই তিনটি ব্যাংক অনুমোদন দিতে অনীহা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক কতৃপক্ষ।


ব্যাংক অনুমোদন দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের কাছে আবেদন করলে অর্থমন্ত্রীর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে মতামত চেয়ে চিঠি দেয়া হয়। অর্থমন্ত্রীর দেয়া চিঠির উত্তরে সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে নতুন করে বেসরকারি খাতে ব্যাংক প্রতিষ্ঠার অনুমতি না দেয়ার বিষয়ে যৌক্তিকতা তুলে ধরা হয়।


বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সুষ্ঠু প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে ব্যাংকিং খাতকে আরও সুশৃঙ্খল করার উদ্দেশ্যে ২০১৩ সালে ৯টি ব্যাংকের অনুমোদন দেওয়া হয়। কিন্তু এই ব্যাংকগুলোর মূলধন পর্যাপ্ততার হার, সম্পদের ওপর মুনাফার হার ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাচ্ছে। শুধু তাই নয়, এসব ব্যাংকের ইক্যুইটি মূলধনের ওপর মুনাফার হারও সন্তোষজনক পর্যায়ে উন্নীত হয়নি।


চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রথম কয়েক বছরের মধ্যেই কয়েকটি নতুন ব্যাংকের বিরূপ শ্রেণিকরণ ঋণের হার বেশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এগুলোর মধ্যে নতুন দুটি ব্যাংকের পরিস্থিতি নাজুক হয়ে পড়ায় তাদের ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।


বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, নতুন দেওয়া ব্যাংকগুলো লাইসেন্সের শর্ত পরিপালন করছে না। নতুন ব্যাংকগুলো ৩ বছরের মধ্যে প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) ইস্যু, মোট ঋণ ও অগ্রীমের অন্তত ৫ শতাংশ কৃষি ও পল্লী ঋণখাতে বিনিয়োগ করার ইত্যাদি শর্তে প্রদান করা হলেও ব্যাংকগুলো তা পরিপালন করতে সক্ষম হয়নি। এখন এই প্রেক্ষাপটে ও বিরাজমান আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতিতে আরও নতুন বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকের লাইসেন্স প্রদান আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য সহায়ক হবে না।


চিঠিতে বলা হয়, ইতিমধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ‘বাংলা ব্যাংক লিমিটেড’ ও ‘পিপলস ব্যাংক লিমিটেড’ নামে দুটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের লাইসেন্স প্রদানের সুপারিশ করা হয়েছে। এই দুটি ব্যাংকের বিষয়ে ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১ এর লাইসেন্স প্রদান সংক্রান্ত বিধি-বিধান এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুুসৃত নিয়ম অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তবে সার্বিক বিবেচনায় এ পর্যায়ে আরও একটি নতুন ব্যাংক অনুমোদন দেওয়ার বিষয়ে সার্বিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নেওয়ার যৌক্তিকতা রয়েছে।


বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলছিলেন, এর আগে যখন নয়টি ব্যাংক দেয়া হয়েছিল তখন আমরা বলেছিলাম বাংলাদেশের অর্থনীতির যে আকার সেখান থেকে আর ব্যাংক দেয়া ঠিক হবে না।


তিনি বলছিলেন, এই নয়টি ব্যাংকের মধ্যে ফারমার্স ব্যাংক রয়ে গেছে। এনআরবি ব্যাংকসহ সমস্যাযুক্ত কিছু ব্যাংক আছে। এই রকম একটা পরিস্থিতিতে আবারো তিনটা ব্যাংকের অনুমোদন দেয়াটা আমি যুক্তিযুক্ত মনে করি না।


তিনি আরো বলেন, শুধু আমি না, যখনি আমরা ব্যাংকিং খ্যাত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কথা বলি তখন সবায় একমত যে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের খুব খারাপ অবস্থা।


অর্থমন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ‘পিপলস ইসলামী ব্যাংক’ নামে একটি ব্যাংকের অনুমোদন পাচ্ছেন চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের বাসিন্দা যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী এমএ কাশেম। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। আর ‘বাংলা ব্যাংক’-এর আবেদন করেছেন বেঙ্গল গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান মো. জসিম উদ্দিন। অন্যদিকে, আরেকটি ব্যাংক একটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য দেয়া হবে।


ব্যাংক দুটি অনুমোদনের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে গত সপ্তাহে বাংলাদেশ ব্যাংকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংকও অনুমোদনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।


বিবার্তা/হোসাইন/ইমদাদ

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com