পোশাকশিল্প আদলে বন্ড সুবিধা পাচ্ছে চামড়া শিল্প
প্রকাশ : ১৩ আগস্ট ২০১৭, ১২:৩৮
পোশাকশিল্প আদলে বন্ড সুবিধা পাচ্ছে চামড়া শিল্প
বিবার্তা প্রতিবেদক
প্রিন্ট অ-অ+

দেশের রফতানি আয় মূলত পোশাক শিল্পনির্ভর। এতে বৈচিত্র্য আনতে পণ্যভিত্তিক রফতানিকে উৎসাহ দেয়ার পরিকল্পনা করেছে সরকার। এর অংশ হিসেবে পোশাকের মতোই বন্ড সুবিধা পেতে যাচ্ছে চামড়া ও পাদুকাসহ চামড়াজাত পণ্য।


পোশাক শিল্পের একটি কারখানায় বন্ড সুবিধায় আনা কাঁচামাল একই মালিকের ৬০ কিলোমিটারের মধ্যে স্থাপিত অন্য কারখানায় ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। কিন্তু অন্যান্য শিল্পের ক্ষেত্রে এ সুবিধা কার্যকর নয়। তাই চামড়া শিল্পকে পোশাক শিল্পের অনুরূপ বিদ্যমান বন্ড সুবিধায় কন্টিনিউশন/এক্সটেনশনে অন্তর্ভুক্তির পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।


বর্তমানে বন্ড সুবিধা বিদ্যমান আছে চামড়াজাত পাদুকা শিল্পে। তবে তা পোশাক খাতের অনুরূপ নয়। বর্তমানে তিন বছর মেয়াদি বন্ড সুবিধা থাকলেও তা সব শিল্পের জন্য নয়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে চামড়া ও পাদুকাসহ চামড়াজাত পণ্যের ক্ষেত্রে এটি তিন বছর মেয়াদি করা হবে।


লেদারগুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এলএফএমইএবি) সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আবদুল মোমেন ভুইয়া এ প্রসঙ্গে বলেন, বর্ষপণ্য ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে বেসরকারি খাতের সমন্বয়ে সরকার বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করছে। এখানে আমাদের একটি দাবি ছিল বন্ডসহ বিভিন্ন সুবিধা পোশাক শিল্পের অনুরূপ করা। এটিসহ বার্ষিক কর্মপরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন হলে খাতটি আরো এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাবে।


বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চামড়া ও পাদুকাসহ চামড়াজাত পণ্য ঘিরে যেসব পরিকল্পনা করা হয়েছে, তার মধ্যে আছে ২০২১ সালের মধ্যে খাতটি থেকে ৫০০ কোটি ডলার আয়ের লক্ষ্য অর্জনে নীতি সহায়তা প্রদান। এছাড়া আছে সাভার থেকে রফতানিকৃত ক্রাস্ট ও ফিনিশড চামড়ায় ন্যূনতম পাঁচ বছর ৫ শতাংশ হারে নগদ সহায়তা প্রদান ও চামড়া খাতের পথনকশা তৈরি। পাশাপাশি স্প্লিট লেদারের এইচএস কোড সৃষ্টি ও ৭২ ঘণ্টার মধ্যে চামড়াজাত পণ্যসংশ্লিষ্ট আমদানি-রফতানি কনসাইনমেন্ট অবমুক্ত করার কার্যক্রমও রয়েছে পরিকল্পনায়।



কর্মপরিকল্পনায় আরো আছে তৈরি পোশাকের মতোই দিনের বেলা চামড়াজাত পণ্যবাহী কাভার্ড ভ্যান কারখানা থেকে অভ্যন্তরীণ কনটেইনার টার্মিনালে (আইসিডি) চলাচল করতে দেয়া। চামড়া ও পাদুকাসহ চামড়াজাত পণ্যকে অরেঞ্জ থেকে গ্রিন শ্রেণীতে অন্তর্ভুক্ত করা এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মেলা ও সম্মেলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।


এলএফএমইএবি সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, এ খাতে এরই মধ্যে স্বাস্থ্য ও জীবন বীমা কর্মসূচির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। শ্রমিকদের সংক্রামক রোগ প্রতিরোধেও আমরা পদক্ষেপ নিয়েছি। খাতটি নিয়ে গবেষণায় আমরা একটি সেন্টার অব এক্সিলেন্সও গঠন করেছি। বর্ষপণ্য ঘোষণা ও এর পরিপ্রেক্ষিতে গ্রহণ করা কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে খাতটি আরো এগিয়ে যাবে।


বিবার্তা/জিয়া


সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (২য় তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com