যৌথ নামে সঞ্চয়পত্র কেনা যাবে না !
প্রকাশ : ১৮ জুন ২০১৭, ১৮:৪৩
যৌথ নামে সঞ্চয়পত্র কেনা যাবে না !
প্রতীকী ছবি
মৌসুমী ইসলাম
প্রিন্ট অ-অ+

এতো দিন বিনা শর্তে কেনা গেলেও এখন থেকে সঞ্চয়পত্র কেনার আগে জানাতে হবে আয়ের উৎস! একই সঙ্গে যৌথ নামে কেনা যাবে না সঞ্চয়পত্র।


অর্থমন্ত্রণালয়ে জমা দেয়া জাতীয় সঞ্চয় স্কিমের বিধি-বিধান সংশোধন প্রস্তাবে এমন পরামর্শই দিয়েছে জাতীয় সঞ্চয় অধিদফতর।


সংস্থাটির মহাপরিচালক বাবলু কুমার সাহা বলেন, এতোদিন বিনা শর্তে বিনিয়োগের সুযোগ থাকলেও এখন আর তা রাখা হবে না। কারণ, সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের অর্থ কোন উৎস থেকে আসছে তা স্পষ্ট হওয়া উচিৎ। যেহেতু এই বিনিয়োগে মুনাফার হার তুলনামুলক বেশি, তাই স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই এমন পরামর্শ দেয়া হয়।


বিধিমালা সংশোধনী প্রস্তাবে, সঞ্চয়পত্রের প্রতিটি স্কিমে বিনিয়োগের উর্ধ্বসীমা কমিয়ে ২৫ লাখ টাকা করার পরামর্শও দেয়া হয়। তবে, পেনশন সঞ্চয়পত্রে আগের সুদহারই রাখার পক্ষে সঞ্চয় অধিদফতর। এছাড়া যৌথ নামে বিনিয়োগের সুযোগ বাতিল করে প্রতিটি স্কিমে শুধু একক নামে বিনিয়োগের সুযোগ দেয়ার বিধান চালু করার কথা বলা হয়।


জানা গেছে, এই সুযোগ নিয়ে এক ব্যক্তি যৌথ নামে এবং পৃথক নামে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগে করছে। ১৩টি খাতের সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের সুযোগ থাকলেও নামে-বেনামে অনেক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান অতি মুনাফার লোভে কিনছে সঞ্চয়পত্র। তদারকি ব্যবস্থা না থাকায় সরকারের ঋণ বাড়ছে।


চলতি অর্থবছরের ১০ মাসে প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র কিনেছে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান, যা বছর শেষে দাঁড়ায় প্রায় চার হাজার কোটি টাকা। তাই নতুন বিধিমালায় সকল বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ বন্ধের প্রস্তাব দেয়া হয়।


বর্তমান নিয়মে নাবালকের নামে সঞ্চয়পত্র কেনার সুযোগ দিয়েছে সরকার। তবে নতুন প্রস্তাবনায় এই সুযোগ বাতিলের প্রস্তাব করছে সঞ্চয় অধিদফতর।


নারী প্রতিবন্ধী এবং সমাজের বয়োজ্যেষ্ঠ নাগরিকদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারিবারিক সঞ্চয়পত্রে অনধিক পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগকারীদের মুনাফার হার আরও বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়। একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের তথ্য জানতে ডিজিটালাইজেশন ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব দিয়েছে জাতীয় সঞ্চয় অধিদফতর।


বাবলু কুমার সাহা আরও বলেন, সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ করা হচ্ছে। বিনিয়োগের উর্ধ্বগতি ঠেকাতে নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। তবে সমাজের স্বল্প আয়ের মানুষ যাতে সঞ্চয়পত্রের সুফল পায় তা নিশ্চিত করবে সরকার।


এ প্রসঙ্গে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, সঞ্চয়পত্র বিক্রি করে সরকার সাধারণ মানুষদের যে সুরক্ষা দেয়ার কথা বলছে, তা অর্থনীতির জন্য ঝুঁকি তৈরী করছে। কারণ, এতে সরকারের দায় বাড়ছে। পেনশনভোগীসহ অন্যান্য স্বল্প আয়ের মানুষদের নিরাপত্তার জন্য বাজেটে সুনিদিষ্ট কর্মপন্থা থাকা দরকার। সুদের হার সমন্বয় করে বিক্রি নিয়ন্ত্রণ করা দরকার।


বিবার্তা/মৌসুমী/হুমায়ুন

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (২য় তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com