লোকসানের মুখে রাবার শিল্প
প্রকাশ : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ১৩:১১
লোকসানের মুখে রাবার শিল্প
কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

কক্সবাজারের উখিয়া সীমান্তে পাহাড়জুড়ে গড়ে উঠা সম্ভবনাময়ী রাবার বাগানে রাবার উৎপাদন বাড়লেও বাজারে দাম অর্ধেকে নেমে আসায় কোটি টাকার বেশি লোকসান গুনতে হচ্ছে শিল্প উদ্যোক্তাদের।


তারা দাবি করেন, উখিয়া, ঘুমধুম ও তুমব্রু মৌজার বিস্তৃীর্ণ পাহাড়ি এলাকায় দেশে সাদা স্বর্ণ হিসেবে খ্যাত রাবার শিল্প এখন বন্ধের উপক্রম হয়েছে। তাদের মতে, শুধু উখিয়া বা ঘুমধুমে নয়, দেশের বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠা রাবার বাগানের মালিকদের পুঁজি সংকটের কারণে হুমকির মুখে পড়েছে উৎপাদন।


উখিয়ার একটি রাবার বাগানের উপ-ব্যবস্থাপক বলেন, নামমাত্র আমদানি শুল্ক বসানোর কারণে আমদানিকারকেরা বিদেশ থেকে চাহিদার তুলনায় বেশি রাবার আমদানি করছে। ফলে দেশীয় রাবারের চাহিদা কমে যাচ্ছে। ১৯৬০ সাল থেকে টিকে থাকা এ শিল্পকে বাঁচাতে আমদানি শুল্ক বাড়ানো এবং রাবারের উপর ভ্যাট ও আয়কর প্রত্যাহার করার দাবি জানান তিনি।


সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্তমানে দেশে যে পরিমাণ রাবার উৎপাদন হয় তা দিয়ে দেশের চাহিদার ৬০ ভাগ মেটানো সম্ভব হলেও বিদেশ থেকে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি রাবার আমদানি করা হচ্ছে। অন্যদিকে রাবার আমদানিতে নামমাত্র আমদানি শুল্ক বসানো এবং কৃষিপণ্য হলেও রাবার বেচার সময় শতকরা ১৫ টাকা ভ্যাট ও চার টাকা আয়কর চাপিয়ে দেয়াই রাবার শিল্পের বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ। ভিয়েতনাম দেশের বর্তমান বাজার দরের চেয়ে কম দামে এদেশে রাবার রপ্তানি করছে।


উল্লেখ্য, কাঁচা রাবারে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশনের সহযোগিতায় গ্লাসকো রাবার অ্যান্ড কোম্পানি নামে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ১৯৮০-৮১ সালে উখিয়ার কুতুপালং টিভি রিলে কেন্দ্রের পার্শ্বে ২৫ একর জায়গায় রাবার বাগান সৃজন করে। এটা সরকারের কাছ থেকে ৪০ বছরের জন্য লিজ নেয়া হয়। ওই বাগানের ম্যানেজার রবিউল ইসলাম বলেন, মালয়েশিয়া থেকে বীজ এনে এ বাগানটি গড়ে তোলা হয়। পরবর্তীতে প্রায় ঘুমধুম ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে প্রায় ২০/২৫টি রাবার বাগান গড়ে উঠেছে।


তিনি জানান, দুই বছর ধরে রাবারে লাভের চেয়ে লোকসান বেশি হচ্ছে। প্রতিকেজি রাবার উৎপাদনে ১৮৮ টাকা খরচ পড়লেও বর্তমানে বাজার দর পাওয়া যাচ্ছে ৯০ থেকে ১০০ টাকা। এ অবস্থা চলতে থাকায় গুনতে হচ্ছে লাখ লাখ টাকার ক্ষতি। শুধু এ বাগানই নয়, বর্তমানে কোটি কোটি টাকা লোকসানের মুখে দেশের সরকারি-বেসরকারি রাবার বাগান। এ অবস্থা চলতে থাকলে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বেসরকারি বাগানগুলোও বন্ধ হয়ে যেতে পারে।।


সরেজমিনে রাবার বাগান ঘুরে দেখা গেছে, বাগানের হাজার হাজার গাছে ঝুলছে ছোট ছোট মাটির পাত্র। সেই পাত্রে কাটা অংশ দিয়ে গাছ বেয়ে পড়ছে ধবধবে সাদা দুধের মতো রাবারের কষ। পাত্রে জমা হওয়া রাবারের কষ সংগ্রহ করে শ্রমিকেরা ভার বয়ে নিয়ে যাচ্ছে কারখানায়।


খবর নিয়ে জানা যায়, মূলত সারা বছরই রাবার উৎপাদন চলে। তবে অক্টোবর থেকে জানুয়ারি, সর্বশেষ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পাঁচ মাস রাবার উৎপাদনের ভর মৌসুম। মৌসুমে প্রতিদিন উখিয়া ও ঘুমধুমে রাবার বাগান থেকে চার হাজার থেকে সাড়ে চার হাজার কেজি কষ আহরণ করা হয়। শীতে কষ আহরণ বেশি হয়, আবার বর্ষায় উৎপাদন কমে আসে। বাগান থেকে সাদা কষ সংগ্রহের পর সাতদিনের মধ্যে তা প্রক্রিয়াজাত করে শুকনো রাবারে পরিণত করা হয়।


বিবার্তা/জিয়া

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (২য় তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com