‘একটি সিনেমার গল্প’র পর আলমগীর...
প্রকাশ : ০৮ নভেম্বর ২০১৮, ১৫:৪৩
‘একটি সিনেমার গল্প’র পর আলমগীর...
বিনোদন প্রতিবেদক
প্রিন্ট অ-অ+

চলতি বছর পহেলা বৈশাখে মুক্তি পেয়েছিলো নায়ক প্রযোজক আলমগীর পরিচালিত সিনেমা ‘একটি সিনেমার গল্প’। এই সিনেমায় অভিনয়ও করেছিলেন তিনি। এতে একজন পরিচালকের ভূমিকায় তিনি অভিনয় করেছিলেন।


এতে আরো অভিনয় করেছিলেন আরিফিন শুভ, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, সাদেক বাচ্চু, সাবেরী আলম, সৈয়দ হাসান ইমাম, ববি, জ্যাকি আলমগীরসহ আরো অনেকে। এই সিনেমার মধ্যদিয়েই একজন সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে অভিষেক হয় আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন গায়িকা রুনা লায়লার। গাজী মাজহারুল আনোয়ারের কথায় রুনা লায়লার সুর করা গানে কন্ঠ দিয়েছিলেন আঁখি আলমগীর। রুনার ভাষ্যমতে, আঁখি অসাধারণ গেয়েছিলেন।


‘একটি সিনেমার গল্প’র পর আর কোনো সিনেমা নির্মাণ করবেন কী না এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আলমগীর বলেন, আপাতত সিনেমা নির্মাণ নিয়ে ভাবছি না। দেশের সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তখন দেখা যাবে।


বাংলাদেশের দর্শকের কাছে নায়ক হিসেবে আলমগীরের রয়েছে এক অন্যরকম জনপ্রিয়তা। পর্দায় তার ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন উপস্থিতি সবসময়ই দর্শককে মুগ্ধ করে আসছে। আলমগীরের জন্ম ১৯৫০ সালের ৩ এপ্রিল। তার পিতা আলহাজ্জ্ব কলিম উদ্দিন আহমেদ (দুদু মিয়া) ছিলেন ‘মুখ ও মুখোশ’ ছবির অন্যতম একজন প্রযোজক।


আলমগীর অভিনীত প্রথম চলচ্চিত্র ‘আমার জন্মভূমি’। তার অভিনীত দ্বিতীয় চলচ্চিত্র ছিল ‘দস্যুরানী’। এতেই প্রথম তিনি শাবানার সঙ্গে জুটিবদ্ধ হয়ে অভিনয় করেন। দর্শকের কাছে আলমগীর-শাবানা জুটির ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা ছিলো এবং এখনো আছে। এই জুটিই এদেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাসে সর্বাধিক একশ’র অধিক চলচ্চিত্রে জুটিবদ্ধ হয়ে অভিনয় করেছেন।


আলমগীর অভিনীত উলেল্লখযোগ্য চলচ্চিত্রগুলো হচ্ছে ‘চাষীর মেয়ে’, ‘জয় পরাজয়’, ‘হাসি কান্না’, ‘লাভ ইন সিমলা’, ‘জাল থেকে জ্বালা’, ‘শাপমুক্তি’, ‘গুন্ডা’, ‘মাটির মায়া’, ‘মনিহার’, ‘লুকোচুরি’, ‘হীরা’, ‘মমতা’, ‘মনের মানুষ’, ‘রাতের কলি’, ‘মধুমিতা’, ‘হারানো মানিক’, ‘মেহেরবানু’, ‘কন্যাবদল’, ‘কাপুরুষ’, ‘শ্রীমতি ৪২০’, ‘জিঞ্জির’, ‘বদলা’, ‘সাম্পানওয়ালা’, ‘কসাই’, ‘প্রতিজ্ঞা’, ‘লুটেরা’, ‘চম্পাচামেলী’, ‘গাঁয়ের ছেলে’, ‘ওস্তাদ সাগরেদ’, ‘দেনা পাওনা’, ‘মধুমালতী’, ‘আশার আলো’, ‘বড় বাড়ীর মেয়ে’, ‘আল হেলাল’, ‘সবুজ সাথী’, ‘রজনীগন্ধ্যা’, ‘ভালবাসা’, ‘লাইলী মজনু’, ‘বাসরঘর’, ‘মান সম্মান’, ‘ধনদৌলত’, ‘নতুন পৃথিবী’, ‘হাসান তারেক’, ‘সালতানাৎ’, ‘দ্বীপকন্যা’, ‘সকাল সন্ধ্যা’, ‘মহল’, ‘অগ্নিপরীক্ষা’, ‘সখিনার যুদ্ধ’, ‘ভাত দে’, ইত্যাদি।


১৯৮৫ সালে তিনি ‘মা ও ছেলে ’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। এরপর আরো আটবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান তিনি। এদেশে নায়কদের মধ্যে তিনিই সর্বাধিকবার এই পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।


১৯৮৬ সালে আলমগীর প্রথম ‘নিষ্পাপ’ চলচ্চিত্র নির্মাণের মধ্যদিয়ে পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। তার নির্দেশনায় নির্মিত সর্বশেষ চলচ্চিত্র হচ্ছে ‘নির্মম’।


তার দীর্ঘদিনের চলচ্চিত্রের ক্যারিয়ারে একজন সঙ্গীত শিল্পী হিসেবেও তিনি চলচ্চিত্রে গান গেয়েছেন। সত্য সাহার সুরে তিনি প্রথম প্লে-ব্যাক করেন। ‘আগুনের আলো’ , ‘কার পাপে’, ‘ঝুমকা’ ও ‘নির্দোষ’ চলচ্চিত্রে তিনি প্লে-ব্যাক করেন।


বিবার্তা/অভি/জাকিয়া

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com