আর্জেন্টিনার সিনেমা সংস্কৃতি
প্রকাশ : ২২ জুন ২০১৮, ০০:০৯
আর্জেন্টিনার সিনেমা সংস্কৃতি
বিনোদন ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

আর্জেন্টিনা দক্ষিণ আমেরিকার একটি রাষ্ট্র। বুয়েনোস আইরেস দেশটির বৃহত্তম শহর ও রাজধানী। দেশটি দক্ষিণ আমেরিকার দক্ষিণ অংশের প্রায় পুরোটা জুড়ে অবস্থিত। আয়তনের দিক থেকে এটি দক্ষিণ আমেরিকার ২য় বৃহত্তম এবং বিশ্বের ৮ম বৃহত্তম রাষ্ট্র। আর্জেন্টিনায় ভূ-প্রকৃতি ও জলবায়ু বিচিত্র। দেশটির শিল্পসংস্কৃতি বেজায় ভিন্ন। তবে তারা ফুটবল প্রেমী।


ল্যাটিন আমেরিকার ছবির একটা আলাদা নির্মাণশৈলী রয়েছে। এসব ছবি দেখলে ভুলেই যাবেন এই মহাদেশটা বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী দেশ যুক্তরাষ্ট্রের পাশ ঘেঁষেই অবস্থিত। বিভিন্ন সময়ে হলিউড বিশ্বের নানা চলচ্চিত্র কারখানাকে প্রভাবিত করেছে।


সেই প্রভাব থেকে ইউরোপ গা ঝাড়া দিয়ে বেরিয়েছে, ইরানও হলিউডি চলচ্চিত্রের লেজ ধরে থাকেনি। আর সবচেয়ে হুঙ্কার দিয়ে হলিউডের পথ ছেড়ে উল্টোপথে হেঁটেছে লাতিন আমেরিকার চলচ্চিত্র। বিশেষ করে আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, মেক্সিকো, কিউবা।


আর্জেন্টিনায় প্রতিবছর দুই শতাধিক সিনেমা নির্মাণ হয়।



পঞ্চাশের দশকে আর্জেন্টিনার সাংস্কৃতিক জগতে শুধু নয়, উত্থান ঘটছে রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও , তখন পাল্টে যেতে থাকে চলচ্চিত্রের ভাষা। কিন্তু সত্তর দশকে কিছুটা বাধাগ্রস্থ হয় সামরিক জান্তার অধীনে। সিনেমা প্রযোজনা গুরুতরভাবে কমে যায়।


আশির দশকে চলচ্চিত্রের বিষয়বস্তুতে ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও, লুইস পুঞ্জোর ‘দ্যা স্টোরি- ১৯৮৫’- সেরা বিদেশী ভাষা চলচ্চিত্রের জন্য অস্কার লাভ করে। এছাড়াও বেশকিছু ব্যতিক্রম সিনেমা পাওয়া গেছে তখন।


নব্বই দশককে আর্জেন্টিনা সিনেমার একটি নতুন ধাপ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়, কারণ আগের দশকের স্থিরতা পরিচালকদের নতুন করে ভাবায়। তারা দলবদ্ধ হওয়া শুরু করে। দেশীয় সিনেম্যাটিক পরিচয় পুনরুদ্ধারের জন্য লড়াই শুরু করে। নতুন লক্ষ্যে আগায়। তাদের লক্ষ্য ছিল আর্জেন্টিনার নতুন দিনের বাস্তবতা প্রদর্শন করা, অতীতের ঘটনাগুলির উপর কম গুরুত্ব দেওয়া এবং প্রতিদিনের আর্জেন্টিনীয়দের মুখোমুখি সামাজিক সমস্যাগুলির উপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া। সে সময়ের কিছু তরুন পরিচালক সম্পূর্ণ নতুন ভাবনা চিন্তার সিনেমা নির্মাণ শুরু করে।


পাঁচজন বিখ্যাত সমসাময়িক পরিচালক আছেন যাদের কাজগুলি আর্জেন্টিনার চলচ্চিত্রকে পুনর্নির্মাণে সাহায্য করেছে:


পাবলো ট্রাপোও


ট্রাপোওকে নতুন আর্জেন্টিনার সিনেমার প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে বিবেচিত করা হয়। তাঁর চলচ্চিত্র ‘মুন্দু গ্রু-(ক্রেন ওয়ার্ল্ড)’ অভিবাসী শ্রম-ব্যবস্থার দুর্বল কর্মক্ষেত্রের অবস্থা সম্পর্কে একটি বিদ্বেষপূর্ণ সিনেমা। তার সিনেমার মূল যে বিষয়টি, তিনি নিজে থেকে কিছু বলেন না। অস্পষ্ট গল্প সত্য ঘটনার সঙ্গে রিলেট করতে বাধ্য হবেন আপনি। কান ফিল্ম ফেস্টিভাল, ফেস্টিভাল ডি সিনে ইন্ডিয়েডিয়েটে ডি বুয়েনস এরিস, এবং ভেনিস ফিল্ম ফেস্টিভালে বোনেনস, ফ্যামিলিয়ায় রডেন্ট (রোলিং ফ্যামিলি), কারঞ্চো এবং এলফন্ট ব্ল্যানকো (হোয়াইট এলিফ্যান্ট) সহ অন্যান্য কাজগুলি দেখানো হয়েছে।


লুক্রেসিয়া মারটেল


তার সিনেমার মূল আকর্ষণ কিংবা নান্দনিকতা হলো পারিবারিক বিচ্ছিন্নতা। তিনি জটিল পদ্ধতিতে চিত্রিত করেন যা সামাজিক সমাজের বৈষম্যমূলক সামাজিক অসাম্যতাগুলির উপর তাদের অপরাধকে মুছে দেয়। তার প্রথম চলচ্চিত্র, লা সিনাগা (দ্য সুইমপ, ২০০১),২০০১ সালের সালের বার্লিনে অ্যালফ্রেড বোয়ার পুরস্কার লাভ করে। তার চলচ্চিত্র লা নিননা সান্তা (দ্য পবিত্র গার্ল) এবং লা মুজার সিন ক্যাবেজা (দ্য হ্যান্ডল্ড ভেনমিন) সাথে দুবার কান এ অংশগ্রহণ করেন।


ড্যানিয়েল বার্মাণ


কখনও কখনও তাকে উডি অ্যালেনের সঙ্গে তুলনা করা হয়। তিনি আধা-আত্মজীবনীমূলক চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য বিখ্যাত। তিনটি চলচ্চিত্র, এসারপোরো এল মেসিয়াস (মেসিয়াহের জন্য অপেক্ষা, ২০০০), এল আব্রোজো পার্টি (হার্ট অ্যামব্রাস, ২০০৪) এবং ডেরেকো দে ফ্যামিলিয়া (পারিবারিক আইন, ২০০৬) সবচেয়ে বিখ্যাত। হাস্যরস ও বিষণ্ণতা খেলা তাঁর সিনেমার মূল উপজীব্য বিষয়।


এছাড়া জুয়ান হোসে ক্যাম্পানেলা ও ফাবিয়া বিইলিনস্কি সমসাময়িক আর্জেন্টিনার বিখ্যাত দুই পরিচালক। যাদের কাজ বহি:বিশ্বে বেশ প্রশংসিত হয়েছে।



আর্জেন্টিনার বিখ্যাত কিছু সিনেমা:


দ্যা মোটরসাইকেল ডায়েরিজ


মোটরসাইকেল ডায়েরিজ সিনেমাটি নিয়ে নতুন করে আর কিছু বলার নেই । বিপ্লবী চে গুয়েভারাকে বিপ্লবের দীক্ষা দিয়েছিল যে দক্ষিণ আমেরিকা সফর , তাকে উপজীব্য করেই সেলুলয়েডের পাতায় এই সিনেমার আয়োজন। স্বল্প পরিসরে ডায়েরির খুঁটিনাটি উঠে না আসলেও , যতটা এসেছে ততটুকু আপনার কাছে অসাধারন লাগবে।


দ্যা সিক্রেট ইন দেয়ার আইচ


একেবারেই হাল সময়ের সিনেমা। ২০১০ সালে অস্কার মঞ্চে জার্মানীর ‘দ্যা হোয়াইট রিবন’ এবং ফ্রান্সের ‘দ্যা প্রোফেট’ এর মত বাঘা বাঘা সিনেমাকে পরাভূত করে এটি ছিনিয়ে নেয় সেরা মুভির সম্মান ।১৯৯৯ সালে ফেডারেল জাস্টিস এজেন্ট বেঞ্জামিন এসপিতো অবসর জীবন কাটাতে উদ্যোগ নেন একটি উপন্যাস লেখার। উপন্যাসের বিষয়বস্তু হিসেবে বেছে নেন ২৫ বছর আগের তার কর্মজীবনে কাছ থেকে দেখা এক হত্যা রহস্যকে। সঙ্গীনি হিসেবে পেয়ে যান এক সময়ের ভালবাসার মানুষ এবং সহকর্মী আইরিনকে । হঠাৎ করেই যেন কেটে যেতে থাকে দীর্ঘদিনের ধোঁয়াশা । কোনদিকে তাহলে মোড় নিতে চলেছে ঘটনাপ্রবাহ ?


নাইন কোয়িন


একটি থ্রিলার জনরার মুভিতে সাধারন দর্শকের কি এক্সপেকটেশন থাকে? থ্রিল, সাসপেন্স, মনের মত ক্লাইম্যাক্স? আর সাথে যদি থাকে ক্রাইম উপকরন ও হিউমার এর ছোঁয়া? তাহলে আর কি লাগে। এমনই সব উপকরনে ভরপুর আর্জেন্টিয়ান ক্লাসিক মুভি ‘নাইন কোয়িন’।


এছাড়াও এন নোভো পারা মি মুজার (২008), এল কেলান (কেলান, ২০১৫), কারচো (দ্য গুন, ২০১০), এল সেক্রোটো দ্য সাস ওজোস (দ্যা সিক্রেট ইন দেয়ার আইস, ২০০৯), লা হিস্টোরিয়া অফিসিয়াল (দ্য অফিসিয়াল স্টোরি, ১৯৮৫), কামা অ্যাডেন্ট্রো (লাইভ-ইন মেইড, ২০০৪), লা সুরেটে এতো ইচাডা (২০০৫), এল বোনানেস (২০০২), ফাইন্ডিং সোফিয়া (২০১৫)- ছবিগুলো দেখার মত। সূত্র: ইনসাইডার


বিবার্তা/শারমিন

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com