বাজেটের ২০ ভাগ শিক্ষা খাতে ব্যয় করা উচিত: অধ্যাপক সিরাজুল
প্রকাশ : ২৫ মে ২০১৯, ০৮:৫২
বাজেটের ২০ ভাগ শিক্ষা খাতে ব্যয় করা উচিত: অধ্যাপক সিরাজুল
ঢাবি প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেছেন, জাতীয় বাজেটের শতকরা অন্তত ২০ ভাগ শিক্ষা খাতে ব্যয় করা উচিত। এটি খুবই যুক্তিসঙ্গত দাবি।


তিনি বলেন, আর আমাদের জিডিপির অন্তত দুইভাগ শিক্ষাখাতে দেয়া উচিত। এগুলো না বাড়ালে আমাদের শিক্ষার মান বাড়বে না।


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) ক্যাফেটেরিয়াতে শুক্রবার সন্ধ্যায় আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।


আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান ও করণীয় শীর্ষক এই মতবিনিময় ও ইফতার অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি।


অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম বলেন, টাইমস হায়ার এডুকেশনে গবেষণার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে, আবার অন্য একটিতে শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস রুমের শিক্ষা এবং শিক্ষকদের গবেষণা এই দুটি জিনিসই খুব গুরুত্বপূর্ণ।


তিনি বলেন, আমরা যদি গবেষণা না করি, তাহলে কি জ্ঞান সরবরাহ করবো? কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং তার মূল কাজ হচ্ছে শিক্ষা দান। এই শিক্ষা দানের বিষয়টি যদি আমরা দেখি, তাহলে আমার নিজের অভিজ্ঞতা হচ্ছে, এখানে সমস্যাটা অনেক। শিক্ষার্থীদের শিক্ষার ব্যাপারে আগ্রহ কমেছে। কেবল শিক্ষা দিলে হবে না, দেখতে হবে যে, ছেলেমেয়েরা সেই শিক্ষা গ্রহণ করতে পারছে কি না?


প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান বলেন, সম্প্রতি কিউএস র‌্যাংকিং নামে একটি জরিপ প্রকাশিত হয়েছে। দুটো বিখ্যাত প্রতিষ্ঠান আছে যারা এই র‌্যাংকিং করে। একটি টাইমস হায়ার এডুকেশন, আরেকটি কিউএস র‌্যাংকিং। কিউএস র‌্যাংকিং সমীক্ষা দেখিয়েছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এশিয়ার মধ্যে ১২৭তম অবস্থানে। হায়ার এডুকেশন দেখিয়েছে ৪১৭টির মধ্যে নেই। এই র‌্যাংকিংগুলো কোন মানদণ্ডে হয় সেটা নিয়ে অনেক বিতর্ক থাকবে। কিন্তু একটি বিতর্কের বিষয় বলা যায়, কিউএস র‌্যাংকিং আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।


তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার লন্ডনভিত্তিক কিউএসের একজন প্রতিনিধি আমাদের সঙ্গে কথা বললেন। এতে আমরা যদি তথ্য দেই তাহলে তারা আমলে নিয়ে আমাদেরকে মূল্যায়ন করবেন বলে জানানো হয়। তার মানে আমাদের তথ্যগুলো/ডেটাগুলো তাদের কাছে নেই। সেগুলো তাদের কাছে উপস্থাপিত হলে এই বিশ্ববিদ্যালয় র‌্যাংকিংয়ে আওতাভুক্ত হবে।


বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন এবং ডাকসু নেতাদের মতামত আমলে নিয়েছেন উল্লেখ করে উপাচার্য বলেন, সকল মতামতের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনায় প্রতিফলন ঘটুক। আমরা চাই বিশ্ববিদ্যালয় ৪০০ এর মধ্যে আছে, কি ৫০০ এর মধ্যে নাই, কি ১২৭তম আছে, কি ১০ এর মধ্যে নাই সেটি নয়। আমরা চাই ক্রমান্বয়ে ওপরে উঠতে, ক্রম অগ্রগতি, ক্রম উন্নয়ন ঘটাতে।


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি রায়হানুল ইসলাম আবিরের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মাহদী আল মুহতাসিম নিবিড়ের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হারুন-অর-রশিদ ও প্রতিষ্ঠাতা সদস্য আফতাব উদ্দিন মানিক।


এছাড়া অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক গোলাম রব্বানী, সাদা দলের যুগ্ম আহবায়ক অধ্যাপক ড. লুৎফুর রহমানসহ প্রমুখ।


অনুষ্ঠানের শুরুতে ডাকসু নেতা, ক্যাম্পাসে ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠন এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে আলোচনার বিষয়বস্তুর ওপরে প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন সমিতির সভাপতি রায়হানুল ইসলাম আবির।


বিবার্তা/রাসেল/তাওহীদ/জাকিয়া


সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com