নিরাপদ ঢাবি ক্যাম্পাস চায় সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট
প্রকাশ : ১৩ মার্চ ২০১৮, ১৭:১৩
নিরাপদ ঢাবি ক্যাম্পাস চায় সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট
ঢাবি প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বিভিন্ন হলের ছাত্র নির্যাতনের ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে এ নির্যাতন বন্ধসহ নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবি জানিয়েছে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট।


মঙ্গলবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে ছাত্র নির্যাতনের ঘটনায় আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তারা এ দাবি জানান।


সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক রাজীব কান্তি দাস তার বক্তব্যে বলেন, ডাকসু না থাকায় আজ ছাত্ররা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলের মধ্যে নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। ক্ষমতাসীন ছাত্রসংগঠনের নেতারা ভয়-ভীতি দেখিয়ে হলের ছাত্রদেরকে নিজেদের স্বার্থে ইচ্ছামত ব্যবহার করছে। এতে ছাত্রদের অনিচ্ছা থাকলেও ভয়-ভীতির কারণে তারা প্রতিবাদ করতে পারছে না।


রাজীব কান্তি দাস আরো বলেন, ১৯৯০ সালের পর থেকে আজ অবধি ডাকসু নির্বাচন নেই। ১৯৯০ এর আগে যখন ডাকসু ছিল তখন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ছিল নিরাপদ। ডাকসুর নেতাদের কারণে এদেশের অধিকাংশ আন্দোলন সফল হয়েছে। ডাকসু নেতারা প্রথম এদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেছিলেন। ডাকসু নেতারা দল-মতের ঊর্ধে গিয়ে ছাত্রদের অধিকার রক্ষায় কাজ করতেন।


হাইকোর্ট কর্তৃক ছয়মাসের মধ্যে ডাকসু নির্বাচন করার নির্দেশনা দেয়া হলে ও ঢাবি প্রশাসন তা মানেন নি উল্লেখ করে এ বক্তা বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ঘোষণা দিয়েছে ২০১৯ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু এক্ষেত্রে ছয়মাসের বেঁধে দেয়া সময়কে মানা হয়নি। ৬ মাসের নির্দেশনা মেনে এ নির্বাচন করলে এটি ২০১৮ সাল শেষ হওয়ার আগে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।


সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের আহ্বায়ক আলমগীর সুজন তার বক্তব্যে বলেন, প্রতিবছর হাজারো শিক্ষার্থী এক বুক আশা দিয়ে স্বপ্নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়। ভর্তি হওয়ার পর হলে উঠে তারা ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনের দ্বারা নির্যাতিত হন। এ নির্যাতনের মাত্রা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সীমা ছাড়িয়ে যায়।


আলমগীর সুজন বলেন, গত ৭ মার্চ ছাত্রলীগের সাথে আওয়ামী লীগের জনসভার প্রোগ্রামে না যাওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ হল থেকে ১০ ছাত্রকে রাতের অন্ধকারে বের করে দেয়া হয়েছে। ফজলুল হক মুসলিম হলের এক শিক্ষার্থী সিট চেয়ে দেয়াল লেখায় তাকে মেরে রক্তাক্ত করা হয়েছিল। সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের শিক্ষার্থী এহসান রফিক তার ক্যালকুলেটর ফেরত চাওয়ায় তাকে এমন জঘন্যভাবে মারা হয়েছে যে, এখন তার চোখ নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।


সুজন আরো বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা তাদের অধিকারের এক ভাগও পায় না। কিন্তু এক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যেন নীরব দর্শক। কেউ নির্যাতিত হলে তার দায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নেয় না। অথচ স্বায়ত্তশায়িত প্রতিষ্ঠান হিসেবে এ বিষয়ে তাদের দেখভাল করার কথা ছিল।


উল্লেখ্য, মানববন্ধনে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


বিবার্তা/রাসেল/কাফী

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com