বেরোবিতে জালিয়াতি : ২ জনকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ
প্রকাশ : ১০ জানুয়ারি ২০১৮, ২২:৪০
বেরোবিতে জালিয়াতি : ২ জনকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ
বেরোবি প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) ১ম বর্ষ ভর্তিতে জালিয়াতির ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় দুই আসামির রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর করে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।


বুধবার রংপুরের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল আদালতের বিচারক আরিফা ইয়াসমিন মুক্তা এই আদেশ দেন। এর আগে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ সাতদিনের রিমান্ড আবেদন করে।


আসামিদ্বয় হলেন ভর্তিতে প্রক্সি দিয়ে মেধাতালিকায় প্রথম হওয়া শামস বিন শাহরিয়ার ও জালিয়াতির ঘটনার হোতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ারিং দপ্তরের মাস্টার রোলের কর্মচারী আহসান চৌধুরী পিন্টু।


বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (উপ-পরিদর্শক) ও ওই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) মুহিব্বুল ইসলাম মুন।


পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভর্তি জালিয়াতির অভিযোগে আটক সাত শিক্ষার্থী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রলীগ নেতা ও এক অভিভাবককে আটকের পর কয়েকটি চক্রের সন্ধান পায় পুলিশ। এরই ধারাবাহিকতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী আহসান চৌধুরী পিন্টুকে গত ২৯ ডিসেম্বর আটক করে পুলিশ।


বেরোবির ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে গত ২৬ থেকে ২৯ নভেম্বর ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের সাক্ষাৎকার ও ভর্তির জন্য ১৭ ডিসেম্বর নির্ধারিত দিন ছিল। ওই দিন মৌখিক পরীক্ষার বোর্ডে ছয় শিক্ষার্থীর আচরণ সন্দেহজনক মনে হয়। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির কথা স্বীকার করেন তারা।


এরপর তাদের পুলিশে সোপর্দ করা হয়। এই ছয়জন হলেন ‘বি’ ইউনিটের শামস বিন শাহরিয়ার, রিফাত সরকার ও সাদ আহমেদ, ‘সি’ ইউনিটের আহসান হাবীব ও শাহরিয়ার আল সানি এবং ‘এফ’ ইউনিটের রোকসান উজ্জামান।


একই দিন ক্যাম্পাসে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরার সময় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই নেতাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদে ভর্তি জালিয়াতিতে সম্পৃক্ততা পায় পুলিশ। পরদিন ১৭ ডিসেম্বর জালিয়াতির দায়ে আরেক শিক্ষার্থী ও তার বড় ভাইকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। দুই নেতা ও এক অভিভাবককে আটকের পর কয়েকটি চক্রের সন্ধান পায় পুলিশ। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদে কয়েকটি জালিয়াতি চক্রের হদিস মিলে। এরই ধারাবাহিকতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী আহসান চৌধুরী পিন্টুকে গত ২৯ ডিসেম্বর আটক করে পুলিশ।


১৮ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বাদী হয়ে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন এবং ২৮ ডিসেম্বর তিন সদস্য বিশিষ্ট তথ্যানুসন্ধান কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কিন্তু আটককৃত শিক্ষার্থী শামস বিন শাহরিয়ারের মোবাইলের কললিস্ট ও জিজ্ঞাসাবাদ রেকর্ড থেকে ভর্তি পরীক্ষায় বি অনুষদের সমন্বয়ক নজরুল ইসলামের সম্পৃক্তার অভিযোগ ও এক আন্টি রহস্যে তোলপাড় শুরু হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তা দুই গ্রুপ হয়ে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি দিতে থাকলে পরিস্থিতি আরো ঘোলাটে হয়।


সর্বশেষ ভর্তি জালিয়াতদের শাস্তির দাবিতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করতে চাইলে প্রশাসনের বাধায় তা পণ্ড হয়ে যায়। এতেও সাধারণ ছাত্র ছাত্রীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।


বিবার্তা/তমা/শান্ত/কাফী

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com