জাবিতে লাখ টাকায় সুযোগ : ৩ দিনের ভাইভায় আটক ১৪
প্রকাশ : ১৪ নভেম্বর ২০১৭, ১৯:২১
জাবিতে লাখ টাকায় সুযোগ : ৩ দিনের ভাইভায় আটক ১৪
জাবি প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির অভিযোগে ১৪জনকে আটক করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তিন দিনব্যাপী (১২ থেকে ১৪ নভেম্বর) মৌখিক পরীক্ষায় তারা আটক হন। তাদের আশুলিয়া থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।


বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ভর্তি পরীক্ষার লিখিত অংশের উত্তরপত্রে পরীক্ষার্থীদের বাংলা এবং ইংরেজিতে দুটি বাক্য লিখতে হয়। পরবর্তী সময়ে মৌখিক পরীক্ষায় ওই বাক্য দুটি আবার লিখতে হয়। প্রাথমিকভাবে হাতের লেখার সঙ্গে মিল দেখে প্রকৃত পরীক্ষার্থী যাচাই করা হয়। কিন্তু তাদের হাতের লেখায় অমিল পাওয়া গেছে।


আটক ব্যক্তিরা হলেন, আইন ও বিচার অনুষদের ভর্তিচ্ছু নিশাদ আহমেদ, ইমাম হোসেন, আশিকুল হাসা রবিন; বিজনেস স্টাডিজ অনুষদে ভর্তিচ্ছু মাহবুব হোসেন, নাঈমুর রহমান ও মাহমুদুল বশির সৌরভ; কলা ও মানবিকী অনুষদে ভর্তিচ্ছু আশরাফুজ্জামান নয়ন, ইয়াছিন আরাফাত, শেখ পারভেজ আহমেদ, রাকিব হোসান, আবু রায়হান। আইআইটি বিভাগে ভর্তিচ্ছু অমিত হাসান।


নিশাদের সঙ্গে আসা তার বড় ভাই নাঈমুর রহমান সরকারকেও আটক করা হয়। তারা জালিয়াতির কথা স্বীকার করেছেন। এছাড়া রিজওয়ান নামের এক ব্যক্তিকেও আটক করা হয়। তবে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, নিশাদ ও নাইমুর আমাকে সঙ্গে নিয়ে এসেছে। জালিয়াতির বিষয়ে আমি কিছুই জানতাম না।


প্রক্টর অফিস সূত্রে জানা যায়, আইন ও বিচার অনুষদে (এফ ইউনিট) জালিয়াতির অভিযোগে আটক করা হয়েছে নিশাদ আহমদকে। তিনি ৩ লাখ টাকার বিনিময়ে শান্ত নামের এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে চুক্তি করেন। চুক্তি অনুযায়ী আইন ও বিচার বিভাগে শান্ত পরীক্ষা দিলে ৪২তম স্থান লাভ করে। দ্বিতীয়জন ইমাম হোসেন ছয় লাখ টাকার বিনিময়ে রাহাত নামের এক ব্যক্তির সাথে চুক্তি করেন। চুক্তি মোতাবেক রাহাত পরীক্ষায় ৩য় স্থান লাভ করেন। অন্যজন আশিকুল হাসা রবিন। তিনি পরীক্ষায় ১৬তম স্থান লাভ করেন। তার লেখার সাথে পরীক্ষার কাগজের লেখার মিল না পাওয়ায় তাকে আটক করা হয়। তিনি জালিয়াতির কথা অস্বীকার করে বলেন, আমি কোনো জালিয়াতি করিনি। আমাকে এখন পরীক্ষা দিতে দিলে আমি পরীক্ষা দেব। নার্ভাস থাকার কারণে ঠিক মতো লেখতে পারিনি।


বিজনেস স্টাডিজ অনুষদে (ই ইউনিট) জালিয়াতির অভিযোগে আটক করা হয়েছে মাহবুব হোসেনকে। তিনি সাড়ে ৩ লাখ টাকার সনদ নামের এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে চুক্তি করে। চুক্তি মোতাবেক সনদ পরীক্ষা দিলে ৪২তম স্থান লাভ করেন। দ্বিতীয়জন নাঈমুর রহমান। তিনি সুবির নামের এক ব্যক্তির সাথে দুই লাখ টাকা চুক্তি করে। চুক্তি মোতাবেক সুবির ১৫২তম স্থান লাভ করে। অন্যজন মাহমুদুল বশির সৌরভ। তিনিও ৫ লাখ টাকার চুক্তিতে চান্স পান। এতে তিনি পরীক্ষায় ১৫৬তম স্থান লাভ করেন।


কলা ও মানবিকী অনুষদে (সি ইউনিট) জালিয়াতির অভিযোগে আটক করা হয় আশরাফুজ্জামান নয়নকে। তিনি এক ব্যক্তির সাথে ১লাখ টাকার চুক্তি করে চান্স পান। তিনি সি ইউনিটে ১৭তম স্থান লাভ করেন। অন্যজন শেখ পারভেজ আহমেদ। তিনি এক ব্যক্তির সাথে সাড়ে পাঁচ লাখ টাকার চুক্তিতে চান্স পান। এতে তিনি ১৫৫তম স্থান লাভ করেন। আরেকজন রাকিব হোসেন। তিনি এক ব্যক্তির সাথে দুই লাখ টাকার চুক্তিতে চান্স পান। এতে তিনি ৫৮তম স্থান লাভ করেন। একই ইউনিটে চান্স পান ইয়াছিন আরাফাত ৫ম স্থান ও আবু রায়হান ১৩তম স্থান লাভ করে। তারা উভয়েই জালিয়াতির কথা অস্বীকার করেছেন।


আইআইটি বিভাগে জালিয়াতির অভিযোগে আটক করা হয় অমিত হাসানকে। তিনি সনেট নামের এক শিক্ষার্থীর সাথে ছয় লাখ টাকার চুক্তি করেন। চুক্তি মোতাবেক সনেট ১১তম স্থান লাভ করেন।


প্রক্টর তপন কুমার সাহা বলেন, তাদের হাতের লেখা মেলেনি। তা ছাড়া মেধা তালিকায় তাদের অবস্থান অনুযায়ী প্রাসঙ্গিক প্রশ্নের উত্তরও তারা দিতে পারেননি। তারা ভর্তি জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত থাকায় তাদেরকে আশুলিয়া থানা পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।


আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক মো. লোকমান হোসেন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অভিযোগে তাদেরকে আটক করা হয়েছে। থানায় নিয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


বিবার্তা/যোবায়ের/কাফী

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com