চবি কর্তৃক ইউনিসেফের গবেষণার প্রস্তাব প্রত্যাখান
প্রকাশ : ১৩ আগস্ট ২০১৭, ০০:৩৭
চবি কর্তৃক ইউনিসেফের গবেষণার প্রস্তাব প্রত্যাখান
বিবার্তা প্রতিবেদক
প্রিন্ট অ-অ+

চলতি বছরের ২০ এপ্রিল ইউনিসেফ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) সাথে একটি যৌথ গবেষণার জন্য লিখিতভাবে প্রস্তাব প্রদান করে।ইউনিসেফের পক্ষ থেকে বারবার রিমাইন্ডার দেয়ার পরও চবি কর্তৃপক্ষ তা প্রত্যাখান করে। বাংলাদেশে প্রবেশ করা রোহিঙ্গাদের নিয়ে এ গবেষণা করা হবে বলে প্রস্তাবে উল্লেখ ছিলো।


২০১৬ সালের অক্টোবরে যেসব রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে, তাদের কারণে বাংলাদেশের কি ধরনের অসুবিধা হচ্ছে এবং এসব নতুন আসা রোহিঙ্গারা কী ধরণের অসুবিধায় পড়ছে, সে সব বিষয় নিয়ে ইউনিসেফ একটি গবেষণা সম্পন্ন করার জন্য চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের কয়েকজন অভিজ্ঞ শিক্ষকদের নিয়ে একটি গবেষণা টিম তৈরি করে এ গবেষণা সম্পন্ন করবে বলে প্রস্তাব দেয়। সে গবেষণা টিমের প্রধান হচ্ছেন নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. নাসির উদ্দিন। অন্যান্য সদস্যরা হচ্ছেন, সমাজতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. ইন্দ্রজিৎ কুন্ডু, প্রফেসর এসএম মনিরুল হাসান এবং ড. নাজমুল ইসলাম খান, সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক মো. আতিকুর রাহমান এবং জনাব আলি আর রাজি।


ইউনিসেফের প্রস্তাবে আরো বলা হয়, যতো টাকার প্রজেক্ট হবে, ইউনিসেফ গবেষণার খরচের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়কে ১৫ শতাংশ অর্থ (ওভারহেড কস্ট হিসাবে) প্রদান করবে।


কিন্তু ইউনিসেফের ২০ এপ্রিলের দেয়া প্রস্তাবের পর ইউনিসেফের পক্ষ থেকে বারবার রিমাইন্ডার দেয়ারপরও বিশ্ববিদ্যালয় কোন জবাব দিচ্ছিল না। অবশেষে তিনমাস দশ দিন পর আগস্টের ১ তারিখ চবি কর্তৃপক্ষ কোন ধরণের গ্রহণযোগ্য কারণ দর্শানো ছাড়াই ইউনিসেফের এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে।


চবি রেজিস্ট্রার সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিনের দোহাই দিয়ে বলেন, এ প্রস্তাবে কিছু ‘অস্পষ্টতা’ আছে, তাই বিশ্ববিদ্যালয় এ কাজ করবে না। কিন্তু গবেষণা টিমের সদস্যদের বক্তব্য হচ্ছে, ‘যদি অস্পষ্টতা থেকে থাকে, তাহলে চবি কর্তৃপক্ষ ইউনিসেফের কাছে এ গষেণার টার্মস অ্যান্ড কন্ডিশন জানতে চাইতে পারতো, গবেষণা টিমের কাছেও অস্পষ্টতার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে পারতো। কিন্তু চবি কর্তৃপক্ষ কোন ধরণের উদ্যোগ না দিয়ে ইউনিসেফের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছে যা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য সম্মানহানিকর।’


অভিযোগ উঠেছে, এ গবেষণা করার জন্য ইউনিসেফ যে বিশেষজ্ঞ টিমকে নির্বাচন করে, তাদের সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসনের সুসম্পর্ক না-থাকার কারণে চবি এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। তাছাড়া, সমাজবিজ্ঞান অনুষদের বর্তমান ডিনের সেচ্ছ্বাচারিতার কারণে বিশ্ববিদ্যালয় এরকম একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।


ইউনিসেফের মতো প্রতিষ্ঠানের দেয়া যৌথ গবেষণার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা কোনোভাবে চবি’র জন্য সম্মানজনক নয় এবং এর প্রতিফল হিসাবে ভবিষ্যতে অন্যান্য আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান চবি সাথে যৌথ গবেষণায় নিরোৎসাহিত প্রকাশ করবে বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক সিনিয়র শিক্ষক মন্তব্য করেন।


বিবার্তা/আমিরুল

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (২য় তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com