ঢাবিতে গৌড়ীয় নৃত্য দর্শনে শান্তির বাণী শীর্ষক বক্তৃতা
প্রকাশ : ১২ জানুয়ারি ২০১৭, ১৬:১৯
ঢাবিতে গৌড়ীয় নৃত্য দর্শনে শান্তির বাণী শীর্ষক বক্তৃতা
ঢাবি প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

‘গৌড়ীয় নৃত্য দর্শনে শান্তির বাণী’ শীর্ষক ‘নাজেন্দা-আজিজ ট্রাস্ট বক্তৃতা ২০১৫’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনস্থ সেমিনার কক্ষে এ বক্তৃতা অনুষ্ঠিত হয়।


স্মারক বক্তৃতা প্রদান করেন রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োজিত রবীন্দ্র অধ্যাপক ড. মহুয়া মুখোপাধ্যায়।


এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ ও নাজেন্দা-আজিজ ট্রাস্ট তহবিলের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন নাজেন্দা-আজিজ ট্রাস্টের দাতা ও নৈতিক উন্নয়ন কেন্দ্রের পরিচালক ইউজিসি অধ্যাপক ড. গালিব আহসান খান।


যৌথভাবে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের নৈতিক উন্নয়ন কেন্দ্র এবং নাজেন্দা-আজিজ ট্রাস্ট ফান্ড।


স্মারক বক্তৃতায় অধ্যাপক ড. মহুয়া মুখোপাধ্যায় গৌড়ীয় নৃত্যের জ্ঞান ভাণ্ডার ব্যাখা করে এর দার্শনিক পটভূমির প্রতি আলোকপাত করেন। তিনি দার্শনিক ভিত্তিমূলে সত্যদর্শন এবং শান্তির অনুসন্ধানকে ব্যক্ত করেছেন তার মনোমুগ্ধকর নৃত্য-গীতসহযোগ আলোচনায়। অনন্য পরিবেশনায় বাঙালি সংস্কৃতির শান্তির দার্শনিক প্রত্যয়বোধকে তিনি তার বক্তব্য এবং বক্তব্য সংশ্লিষ্ট নৃত্য উপস্থাপনার মধ্য দিয়ে প্রকাশ করেছেন।


প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক ড. মহুয়া মুখোপাধ্যায়ের শিক্ষা ও কর্মজীবনের বৈচিত্রের ভূয়সী প্রশংসা করেন। মহুয়া মুখার্জী বিজ্ঞানের ছাত্রী হয়েও নৃত্যকলাকে বিদ্যাঙ্গনে নিবিড়ভাবে যুক্ত করে অসাধারণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বলে উল্লেখ করে উপাচার্য বলেন, সঙ্গীতের দার্শনিক ভিত্তি অত্যন্ত শক্তিশালী।
মুক্তিযুদ্ধের সময় ১৯৭১ সালে জর্জ হ্যারিসনের কনসার্টকে উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, সংগীতের শক্তি অপরিসীম। সঙ্গীতের শক্তি নিয়ে কাজ করে যেতে হবে আমাদের। ধর্মের নামে আজ মানুষকে নিপীড়ন করা হচ্ছে, তা অধর্ম। দেশের অসহিষ্ণু অবস্থায় আমরা শান্তি খুঁজে বেড়াচ্ছি। উপাচার্য আরও বলেন, সত্য চিরন্তন, সত্যকে খোঁজা ও প্রচার করাই মানব ধর্ম।


তিনি বলেন, দর্শনের মূল কথাই হলো শান্তি। শান্তির বাণী মনে রেখে সমাজে, দেশে ও বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠায় আমাদের কাজ করতে হবে। প্রকৃত ধর্ম হলো সত্য অনুন্ধানী, সত্য হলো মানব ধর্মের চিরন্তনতা।


উপাচার্য স্মারক বক্তৃতার উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, সব মতকে গ্রহণ করে সমাজে সহিষ্ণুতা সৃষ্টি হলে শান্তির বাতাবরণ সৃষ্টি হবে। বিভিন্ন বিষয়ের অন্তর্নিহিত লক্ষ্য হলো অন্তদৃষ্টি তৈরি করা, দূরদৃষ্টি সম্পন্ন সত্যনিষ্ট মানুষ তৈরি করা। শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে শিক্ষার্থীদের দর্শনের শিক্ষায় আগ্রহী করে তুলতে শিক্ষকদের প্রতি উপাচার্য আহ্বান জানান।


সভাপতির বক্তব্যে কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দীন, অধ্যাপক মহুয়া মুখার্জীকে একজন প্রকৃত পণ্ডিত হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, অধ্যাপক মহুয়া বাংলা ও ভারতবর্ষের সংস্কৃতির গভীরে গিয়ে শান্তির দর্শনকে অনুসন্ধান করেছেন। শিক্ষক ও গবেষকদের জন্য তা এক অনুসরণীয় উদাহরণ।


বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃত্যকলা বিভাগের প্রভাষক র্যাজচেল প্রিয়াংকা প্যারিস ও বক্তার প্রবন্ধ সংশ্লিষ্ট নৃত্য পরিবেশনা অনুষ্ঠানকে প্রাণবন্ত করে তোলে।


বিবার্তা/লাভলু/পলাশ

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (২য় তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com