বন্ধ হোক এ অবিচার
প্রকাশ : ২৮ মে ২০১৮, ১৫:৩৪
বন্ধ হোক এ অবিচার
প্রিন্ট অ-অ+

উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের প্রয়োজনে সরকার কোনো-কোনো সময় জনসাধারণের জমি অধিগ্রহণ করে থাকে। এটা এদেশে বহুকাল ধরেই চলে আসছে। যাদের জমি অধিগ্রহণ করা হয় তাদের ''ক্ষতিপূরণ'' দেয়ার কথাও আইনে বলা আছে। যদিও সে ক্ষতিপূরণ শেষপর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা পান কি না, তা নিয়ে আলোচনা না-করাই ভালো।


এ বিরূপ বাস্তবতায় বর্তমান সরকার জমি অধিগ্রণের ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। বলা হয়, অনিবার্য প্রয়োজনে সরকার কোনো জমি অধিগ্রহণ করলে ওই এলাকার জমির ১২ মাসের গড় মূল্যের সঙ্গে অতিরিক্ত ২০০ ভাগ ক্ষতিপূরণ পাবেন জমির মালিক।


খুবই ভালো সিদ্ধান্ত সরকারের। কিন্তু মাঠ পর্যায়ে গিয়ে সরকারের বেশিরভাগ ভালো সিদ্ধান্তের যে কী করুণ পরিণতি হয় তারই একটি মর্মান্তিক প্রতিবেদন করেছে সহযোগী এক বাংলা দৈনিক। তা থেকে খানিকটা তুলে দিই


''ঢাকার নর্দারটেকের (বর্তমান উত্তরার সাত নম্বর সেক্টর) আদি বাসিন্দা মোহর আলী ২০০ বিঘা জমির মালিক ছিলেন, যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৪০০ কোটি টাকা। উত্তরা মডেল টাউনের ৬ ও ৭ নম্বর সেক্টরের বেশিরভাগ বাড়িঘর গড়ে উঠেছে সেই জমির ওপর। অথচ ঢাকা শহরে বসবাসের জন্য এক টুকরা জমি পর্যন্ত মেহের আলীর পরিবারের জোটেনি। পাকিস্তান আমলে তাদের এ বিপুল জমি অধিগ্রহণ হলেও দীর্ঘ ৫০ বছরেও ক্ষতিপূরণের টাকা পায়নি পরিবারটি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মোহর আলীর পরিবারের সদস্যরা এখন অনাহারে-অর্ধাহারে জীবন যাপন করছেন। গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার আন্ধারমানিক নামে অজপাড়াগাঁয়ে এক টুকরা জমিতে আশ্রয় নিয়েছেন তারা। টাকার অভাবে এ পরিবারের অনেকেই বিনা চিকিৎসায় মারা গেছেন।''


এতে আরো বলা হয় ''শুধু একজন মোহর আলীই নন, জমি অধিগ্রহণের শিকার হয়ে আরো অসংখ্য মোহর আলীর জীবনে এ ধরনের ট্র্যাজেডি ঘটেছে। নানা জটিলতা, জালিয়াতি, হয়রানির কারণে যুগ যুগ ঘুরেও জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ শাখা থেকে ক্ষতিপূরণের টাকা বুঝে পায়নি তারা। ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হয়ে অনেকেই ভিক্ষাবৃত্তি গ্রহণ করতে বাধ্য হয়েছে। দেড় শ-দুই শ বিঘা জমির মালিক, যারা স্থানীয়ভাবে তালুকদার হিসেবে পরিচিত ছিল, তাদের শেষ জীবন কেটেছে কপর্দকশূন্য অবস্থায়। তাদের মাথার ওপর ছনের ছাউনি পর্যন্ত ছিল না।''


কেন এ অবস্থা? ভুক্তভোগীদের মতে, পুলিশের যেমন সবচেয়ে বড় অস্ত্র ৫৪ ধারা, তেমনি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে ৫০ অনুচ্ছেদের বিষয়টি তাদের জীবন দুর্বিষহ করে তুলছে। এ কালো আইনটি অচিরেই তুলে দেয়া উচিত।


একজন অবসরপ্রাপ্ত কানুনগো বলেন, বিষয়টি খুবই সোজা। একজন সার্ভেয়ার ও কানুনগো অল্প সময়েই জমির মালিকানা, দখল এবং স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করতে পারেন। কিন্তু চলমান আইনই সেটার পথে বড় অন্তরায়। এসংক্রান্ত একটি অনুচ্ছেদ সংশোধন করলেই অধিগ্রহণ আতঙ্ক কেটে যাবে।


মোটের ওপর এটা পরিষ্কার যে, ভূমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণসংক্রান্ত আইনগুলো হালনাগাদ করাই হলো এ অন্যায়-অবিচার অবসানের সহজ সমাধান। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিছুদিন আগে ঢাকা জেলা প্রশাসন থেকে এ আইনের সংশোধন চেয়ে একটি চিঠি দেওয়া হয়েছিল। এখনো পর্যন্ত সেটা ফাইলবন্দিই আছে। অতীতেও এ ধরনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোনো কাজ হয়নি।


আমরা আশা করবো, শত শত বিঘা জমির মালিককে পথের ভিখারি বানিয়ে রাস্তায় নামিয়ে দেয়ার এ অশুভ চক্র ভাঙতে সরকার জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নিক এবং সেটা যত দ্রুত সম্ভব। এক্ষেত্রে আর কোনো রকম লাল ফিতার দৌরাত্ম্য কোনোভাবেই কাম্য নয়।

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com