শান্তি নামুক দেশে ও বিদেশে
প্রকাশ : ৩১ ডিসেম্বর ২০১৭, ১৯:৪৯
শান্তি নামুক দেশে ও বিদেশে
প্রিন্ট অ-অ+

মহাকালের গর্ভে চিরকালের জন্য হারিয়ে গেল আরো একটি বছর -২০১৭। আমাদের জীবনের কতো আনন্দ-বেদনা, কতো চাওয়া-পাওয়া ও না-পাওয়ার স্মৃতিমাখা একটি বছর! যে দিনগুলো হারিয়ে গেল চিরদিনের মতো, তার কথা ভাবতে গেলেই বুক ভেঙে বেরিয়ে আসে দীর্ঘশ্বাস।


কিন্তু আবার যখন ফেলে আসা দিনে জাতি হিসেবে আমাদের অর্জনের কথা ভাবি, তখন আনন্দে-গৌরবে ফুলে ওঠে বুক। বাস্তবিকই ২০১৭ সাল ছিল বাংলাদেশের জন্য সম্ভাবনা ও অনেক প্রাপ্তির। সাফল্য ছিল সবগুলো ক্ষেত্রে।


বিদায়ী বছরটিতে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণকে আন্তর্জাতিক প্রামাণ্য দলিলের মর্যাদা দিয়েছে।


বিদায়ী বছরেই প্রতিবেশী মিয়ানমার নামের উগ্রবাদী দেশটি থেকে শাসকগোষ্ঠীর নিপীড়নে প্রাণভয়ে পালিয়ে এসেছে লাখ লাখ রোহিঙ্গা। এ ভয়াবহ সংকট সমাধানে ব্যাপক প্রচেষ্টা চালিয়ে আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্ব দরবারে নন্দিত হয়েছেন ''মাদার অব হিউম্যানিটি''রূপে।


বছরের একেবারে শেষে এসে অনূর্ধ্ব-১৫ সাফ নারী ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে দেশের কিশোরীরা প্রবল প্রতিপক্ষ ভারতকে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হয়ে পুরো জাতিকে এক অনন্য মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করেছে। এছাড়া শ্রীলংকাকে পরাজিত করে শততম টেস্ট জেতার স্বাদ নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট। আর ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত আইসিসি ক্রিকেট চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে প্রথমবারের মতো সেমিফাইনাল খেলেছে টিম টাইগার।
চিকিৎসাক্ষেত্রেও এসেছে সাফল্য। মাতৃগর্ভে জোড়া লাগানো ১০ মাস বয়সী তোফা আর টাহুরা ছিল আলোচনায়। বাংলাদেশী বিশেষজ্ঞ শল্য চিকিৎসকরা সফলভাবে তাদের আলাদা করতে সক্ষম হন।


ডেনমার্কের এক রোবটনির্মাতা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে রোবটিক হাত বাজারজাত শুরু করেছে। শিল্প–কলকারখানায় হালকা পণ্য সরাতে রোবোটিক হাত ভারত ও শ্রীলংকার পর এদেশে তার যাত্রা শুরু করলো। আর বছরের শেষে ডিজিটাল মেলায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন সোফিয়ার বাংলাদেশ সফর ছিল সবার আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু। এদেশের তরুণ প্রজন্ম এখন সোফিয়ার মতো রোবট তৈরির স্বপ্ন দেখছে।


অর্থনীতিতে একটি সুসংবাদ এসেছে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি) থেকে। তাদের প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এখন ৭.১ শতাংশ, যা দক্ষিণ এশিয়ার শীর্ষে।


রপ্তানি বাণিজ্যে নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে বাংলাদেশ। গার্মেন্টে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ১০ শতাংশ।


এবছরই বাংলাদেশী গবেষকদের একটি দল স্বল্পমূল্যে মারণব্যাধি ক্যান্সার সনাক্তের উপায় উদ্ভাবন করে সাফল্য দেখিয়েছে। তারা অস্ট্রেলিয়ার ওলনগং ও গ্রিফিথ ইউনিভার্সিটিতে গবেষণা করে দ্রুত ও কম খরচে ক্যান্সার সনাক্তের উপায় উদ্ভাবন করেছেন।


এরকম অনেক আশাজাগানিয়া সংবাদ ছিল বছরজুড়ে। এভাবেই ছোট ছোট পা ফেলে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ।


পুরনোকে হারানোর বেদনায় বিদায়ী বছরকে বলি - বিদায় ২০১৭। আর নতুন আশায় বুক বেঁধে উষ্ণ আলিঙ্গনে স্বাগত জানাই নতুন বছরকে - স্বাগত ২০১৮।


নতুন বছরে আরো এগিয়ে যাক বাংলাদেশ। দেশে ও বিদেশে নেমে আসুক শান্তির অমিয়ধারা - অন্তরের গভীর থেকে এ কামনাই করি।

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com