কলেজশিক্ষকদের কর্মবিরতি প্রসঙ্গে
প্রকাশ : ২৯ নভেম্বর ২০১৭, ১৭:৫৩
কলেজশিক্ষকদের কর্মবিরতি প্রসঙ্গে
প্রিন্ট অ-অ+

কোনো বিষয়ে ভিন্নমত প্রকাশ করা একটি গণতান্ত্রিক অধিকার। হরতাল-ধর্মঘটও এ অধিকারের আওতায় আসে বিধায় আমরা আমরা প্রায়ই নানা পেশার শ্রমজীবীদের এ অধিকার প্রয়োগ করতে দেখি। কাজেই অন্যদের মতো শিক্ষকরাও যদি কোনো দাবিতে ধর্মঘট ডেকে বসেন, তাতে তাঁদের দোষারোপ করার কিছু দেখি না।


কথাগুলো আসছে সরকারি কলেজশিক্ষকদের সদ্যসমাপ্ত কর্মবিরতিকে কেন্দ্র করে। দু'দিনের কর্মবিরতি শেষে মঙ্গলবার ক্লাসে ফিরেছেন সরকারি কলেজের শিক্ষকরা। উপজেলা পর্যায়ে যে ৩০০ কলেজ নতুন করে জাতীয়করণের জন্য তালিকাভুক্ত হয়েছে, সেসব কলেজের শিক্ষকদের ক্যাডারবহির্ভূত রেখে বিধিমালা জারির দাবিতে গত রবিবার থেকে দু' দিনের এ কর্মবিরতি শুরু করেন সরকারি কলেজের শিক্ষকরা।


বিসিএস শিক্ষকদের কর্মবিরতিতে দু'দিন অচল হয়ে ছিল দেশের সাড়ে ৩০০ সরকারি কলেজ। শিক্ষকদের কর্মবিরতির ফলে সারাদেশে সকল সরকারি কলেজের ক্যাম্পাসগুলোতে নেমে আসে নীরবতা।


শিক্ষকরা কর্মবিরতি করতে পারবেন না - এমন কথা না ধর্মগ্রন্থে, না সংবিধানে - কোথাও লেখা নেই। তাছাড়া তাদের দাবি যে একেবারে অযৌক্তিক, তাও নয়। সরকারি কলেজের শিক্ষকরা বিসিএস পরীক্ষার সমুদ্র পেরিয়ে যে মর্যাদা অর্জন রেছেন, আরেকদল সরকারের এক কলমের খোঁচায় তার অংশীদার হয়ে তাতে ভাগ বসাবে - এটা বিনাবাক্যব্যয়ে মেনে নেয়া নিতান্ত মহাপুরুষ ছাড়া আর কারো পক্ষে সম্ভব নয়। সংসারে মহাপুরুষ আর ক'জন থাকে, তাও আবার সরকারি চাকরিতে!


অতএব সরকার সমীপে আমাদেরও বিনীত নিবেদন থাকবে যেন সরকারি কলেজশিক্ষকদের দাবিটি যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হয়।


আমাদের কথা এখানেই শেষ হতে পারতো। কিন্তু যখন শুনি ''বিসিএস শিক্ষকেরা বলছেন, তাদের দাবি মানা না হলে আগামী বছরের জানুয়ারি মাসে তাঁরা আবারও কর্মবিরতির মতো কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবেন'' - তখন কথার পিঠে আরো কথা এসে যায়।


শিক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, সরকারিকরণ হওয়া কলেজের শিক্ষকদের মর্যাদা নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আমাদের জানতে ইচ্ছা হয়, যে বিষয়ে সিদ্ধান্তই হয়নি, তা নিয়ে দু'দিনব্যাপী আন্দোলন কি খুব যৌক্তিক? এরকম সিদ্ধান্ত যাতে না হতে পারে সেজন্য তারা একটা প্রতীকী কর্মসূচি দিতে পারতেন। কিন্তু তারা সে পথে গেলেন না। কেন?


দ্বিতীয় প্রশ্ন - এর আগে যেসব বেসরকারি কলেজ সরকারি করা হয়েছে, সেসব কলেজের শিক্ষকেরা ক্যাডার শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। তাহলে নতুনভাবে জাতীয়কৃত ৩০০ কলেজের প্রায় ১২ হাজার শিক্ষকও ক্যাডার শ্রেণীতে অন্তর্ভুক্ত হবেন - এতে আপত্তি কেন?


আপত্তি থাকতেই পারে। তবে সেই আপত্তি যৌক্তিক হতে হবে এবং তা সরকারকে বোঝাতে হবে। সবকিছু ব্যর্থ হলে তবেই কর্মবিরতির মতো কঠোর কর্মসূচি দেয়াটাই বিধেয় ছিল। ক্যাম্পাসকে কথায় কথায় কর্মবিরতি ছাত্র-শিক্ষক কাউকেই মানায় না; শিক্ষকদের একেবারেই মানায় না। কথাটা সম্মানিত শিক্ষক মহোদয়গণ জানেন, তবুও বিনয়ের সাথে তাঁদের আরেকবার মনে করিয়ে দেয়া হলো মাত্র।

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com