৩০ লাখ টাকায় মেয়েকে হত্যার অনুমতি দেন বাবা
প্রকাশ : ০৯ মার্চ ২০২০, ২১:৩৭
৩০ লাখ টাকায় মেয়েকে হত্যার অনুমতি দেন বাবা
বিবার্তা প্রতিবেদক
প্রিন্ট অ-অ+

দীর্ঘ ৫ বছর পর নরসিংদীর চাঞ্চল্যকর ইলমা বেগম (১১) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উৎঘাটন করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম বিভাগের সিরিয়াস ক্রাইম ইউনিট। ভিকটিমের ফুফাত ভাই মাসুমকে গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উম্মোচিত হয়।


সোমবার (৯ মার্চ) সিআইডি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।


এ সময় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) উপমহাপরিদর্শক ইমতিয়াজ আহমেদ জানান, ২০১৫ সালের ২৭ মার্চ খুন হন বাহেরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ইলমা। এই ঘটনায় ইলমার বাবা আবদুল মোতালেব বাদি হয়ে নরসিংদী মডেল থানায় মামলা করেন।


তিনি জানান, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে ৩০ লাখ টাকার বিনিময়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটাতে সম্মত ও সহায়তা করে তার পিতা আব্দুল মোতালেব।


এ ঘটনায় সিআইডির সিরিয়াস ক্রাইম ইউনিটের বিশেষ পুলিশ সুপার সৈয়দা জান্নাত আরার তত্বাবধানে একটি টিম নরসিংদী সদর থানা এলাকা থেকে আব্দুল মোতালেব, মঙ্গলী বেগম, মাসুম মিয়া, মো. বাতেন, মো, শাহজাহান ভূঁইয়াকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামি মাসুম মিয়া আদালতে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।


তদন্তে জানা যায়, নরসিংদী থানাধীন বাহেরচর নামক একটি দূর্গম এলাকায় মো. শাহজাহান ভূঁইয়া ও সাবেক মেম্বার বাচ্চুর নেতৃত্বে দুইটি দলের মধ্যে এলাকায় প্রভাব বিস্তার নিয়ে দ্বন্দ্ব বিরাজমান ছিল। শাহজাহান গ্রুপের সদস্য ভিকটিমের ফুফাত ভাই মাসুমের সাথে বাচ্চু পক্ষের সদস্য মো. তোফাজ্জলের মেয়ে তানিয়ার সাথে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিয়ে করার উদ্দেশ্যে মাসুম তানিয়াকে তার ভাইয়ের শ্বশুরবড়িতে নিয়ে আসে। পরবর্তীতে তানিয়ার বাবা দলবল সহকারে দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে হামলা করে তানিয়াকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়। ওই ঘটনায় তানিয়ার বাবা বাদি হয়ে মাসুম, মাসুমের ভাই খসরু ও ভাইয়ের শুশ্বর বাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে নরসিংদী সদর মডেল থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করে।


বাচ্চু গ্রুপের সদস্যদের ক্ষতি করার লক্ষ্যে শাহজাহানের বাড়িতে ২০১৫ সালের ১ মার্চ রাতে মাসুমসহ ১৩ জন বৈঠক করে। প্রতিশোধ নিতে একটি হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে বাচ্চু গ্রুপের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করার বিষয়ে বৈঠকে সিন্ধান্ত হয়। সিন্ধান্ত অনুযায়ী শাহজাহান মোতালিবকে তার মেয়ে ইলমাকে টাকার বিনিময়ে হত্যা করার প্রস্তাব করে। মোতালেব মাত্র ত্রিশ লাখ টাকার বিনিময়ে মেয়েকে হত্যা করতে রাজি হয়।


ইমতিয়াজ আহমেদ আরো জানান, ২০১৫ সালের ২৭ মার্চ সন্ধ্যায় ইলমার দুলাভাই ও অন্যরা মিলে তাকে টাকা দেয় বাজার-সদাই করার জন্য। টাকা পেয়ে ইলমা বাড়ির পাশে নুরার দোকান থেকে জিনিস পত্র কিনে বাড়ি ফেরার পথে ইলমার দুলাভাই বাবুল ও ফুফাত ভাই মাসুমের নেতৃত্বে সাত আটজন মিলে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী পার্শ্ববর্তী একটি ধান ক্ষেতে ইট দিয়ে মাথা থেতলে ইলমাকে নৃশংসভাবে হত্যা করে। এই সময় ইলমার বাবা পাশে অবস্থান করছিল।


জিজ্ঞাসাবাদে মাসুম সিআইডিকে জানায়, ইলমার বাবা এ সময় “আগে টাকা দাও পরে কাম সারো”বলে টাকা দাবি করেছিল। প্রকৃতপক্ষে হত্যাকাণ্ডের জন্য চুক্তিকৃত ৩০ লাখ টাকা ভিকটিমের বাবা পাইনি বলে জানা যায়।


বিবার্তা/খলিল/জাহিদ

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanews24@gmail.com ​, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com