‘বিকেলের সচিব’ শফিকুল প্রত্যাহার, অধরা রনি
প্রকাশ : ০২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৯:০৪
‘বিকেলের সচিব’ শফিকুল প্রত্যাহার, অধরা রনি
বিবার্তা প্রতিবেদক
প্রিন্ট অ-অ+

সচিবালয়ের ভেতরেই চাকরিদাতা প্রতারকচক্র সিন্ডিকেট সক্রিয়। এ চক্রে জড়িত সচিবালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কিছু কর্মচারী। অফিসের সময় শেষে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা যখন সচিবালয় ছাড়েন, তখন তাদেরই কক্ষে শুরু হয় প্রতারকদের ‘অফিস’!


গত বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে ‘বিকালে পিয়নই সচিব!’ শিরোনামে অনুসন্ধানমূলক প্রতিবেদন ছাপা হয়। এর পর নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। প্রতারকচক্রের সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট শনাক্তে তদন্ত কমিটি গঠন করে গণপূর্ত অধিদফতরের বাংলাদেশ সচিবালয়ের পিডব্লিউডি ডিভিশন।


অধিদফতরের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. হাসান ইবনে সিরাজকে প্রধান করে ৩ সদস্যবিশিষ্ট এ কমিটি গঠন করা হয়। গত বৃহস্পতিবার থেকে শুরু করে আগামী ১০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়া হয়।


এদিকে কর্মস্থল থেকে প্রত্যাহার করে নেয়া হয় চাকরিদাতা প্রতারক এ চক্রের মূল হোতা সচিবালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী ফরাশ শাখায় (সকালে অফিসের তালা খোলা এবং বিকালে তালাবদ্ধের দায়িত্বে নিয়োজিত) কর্মরত মো. শফিকুল ইসলামকে। তবে ঘটনায় জড়িত অন্যতম প্রতারক সচিবালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী (অস্থায়ী) কেএম মোর্তুজা আলী রনি এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে।


এ প্রতারকচক্রের মূলোৎপাটনে তদন্তে নেমেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগও (সিআইডি)। চাকরিদাতা এ চক্রের বিরুদ্ধে গত ৩ আগস্ট রাজধানীর মিরপুর মডেল থানায় একটি মামলা করেছেন একেএম মোসলেহ উদ্দিন নামে প্রতারণার শিকার মিরপুরের এক বাসিন্দা।


মামলায় আসামি করা হয়েছে সচিবালয়ে কর্মরত চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী মো. শফিকুল ইসলাম ও কেএম মোর্তুজা আলী রনি এবং তাদের সহযোগী দালাল মো. শাহিনুল কাদির সুমন ওরফে পালসার সুমনকে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ- অর্থ মন্ত্রণালয়ের উপসচিবের (প্রশাসন) স্বাক্ষর জাল করে, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার চেয়ারে বসে, রাষ্ট্রীয় কাজে ব্যবহার্য খামে চাকরির ভুয়া নিয়োগপত্র দেয়ার মাধ্যমে দুই চাকরিপ্রত্যাশীর কাছ থেকে ২৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়ার।


গত ২ আগস্ট চক্রের সদস্য পালসার সুমনকে গ্রেফতর করেছে র‌্যাব-৪। মামলাটি শুরু থেকে তদন্ত করে মিরপুর মডেল থানা পুলিশ। প্রতিবেদন প্রকাশের পরদিন গত শুক্রবার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে এ মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে সিআইডির ঢাকা মেট্রো পশ্চিম মিরপুর বিভাগ।


মামলার সাবেক তদন্তকারী কর্মকর্তা মিরপুর মডেল থানার এসআই রাসেল বলেন, চাকরি প্রদানের নামে প্রতারণাকারী এ চক্রের একাধিক সদস্য সচিবালয়ে কর্মরত বলে আমরা প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছি। মামলাটির তদন্তভার গত শুক্রবার গ্রহণ করেছে সিআইডি।


গত ২ আগস্ট মিরপুরের সনি সিনেমা হলের সামনে থেকে এ প্রতারকচক্রের সদস্য শাহিনুল কাদির সুমন ওরফে পালসার সুমনকে র‌্যাব-৪ গ্রেফতার করে।


র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে পালসার সুমন জানিয়েছে, সংঘবদ্ধ এ প্রতারকচক্র রাজধানীসহ সারা দেশের প্রত্যন্ত এলাকার শিক্ষিত বেকার চাকরিপ্রত্যাশীদের বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান যেমন সেনাবাহিনী, রেল, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে মোটা অঙ্কের অর্থ আত্মসাৎ করে। চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে এভাবে প্রতারণা করে আসছে।


বিবার্তা/রবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com